ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের বালেশ্বরের কাছে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত দু’শ জন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৭ টা ২০ মিনিটে বালেশ্বর জেলার বাহাঙ্গা বাজার স্টেশন এলাকায় ঘটে এই দুর্ঘটনা।
জানা গেছে, একই লাইনে করমণ্ডল এক্সপ্রেস ও একটি মালগাড়ি চলে আসার প্রায় একই সময় অন্য লাইনে দিয়ে আসছিল হাওড়াগামী যশোবন্তপুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। করমণ্ডলের ধাক্কার অভিঘাতে যশোবন্তপুর এক্সপ্রেসও সামনের তিনটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক যাত্রীকে উদ্ধার করা গেলেও এখনও দুই এক্সপ্রেসের বহু যাত্রী আটকে রয়েছে। যশবন্ত এক্সপ্রেস আসছিল হাওড়ায়।
রেলের তরফে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। খবর দেওয়া হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও। ৬০টি দমকল ও দুটি ক্রেন উদ্ধার কাজে হাত লাগিয়েছে। স্থানীয়রাও উদ্ধার কাজে হাত লাগিয়েছে।
ঠিক কী কারণে মালগাড়ির সঙ্গে একেবারে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলো তা এখনও স্পষ্ট নয়।
জানা গেছে, স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ১৫ মিনিট নাগাদ পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার শালিমার স্টেশন থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে ছাড়ে করমণ্ডল এক্সপ্রেস। এরপর পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর স্টেশন থেকে ছাড়ে বিকেল সোয়া ৫টায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ট্রেনটি পৌঁছায় উড়িষ্যার বালেশ্বরে। কাছেই বাহানগা বাজারের সজোরে মালগাড়িকে ধাক্কা দেয় চেন্নাইগামী ট্রেনটি। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে করমন্ডলের ২৩ বগির ট্রেনটি।
এরই মধ্যে হাওড়া স্টেশনে রেলের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। হেল্পলাইন নম্বর জানিয়েছে রেল।
হাওড়ার হেল্পলাইন নম্বর ০৩৩-২৬৩৮২২১৭, পাশাপাশি বালেশ্বরে কন্ট্রোল রুম ৭৯৭৮৪১৮৩২২। হাওড়া থেকে অনেকগুলো এক্সপ্রেসে বাতিল করা হয়েছে। রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।
এদিকে করমন্ডল এক্সপ্রেস চলে হাওড়া থেকে চেন্নাই। ফলে বহু বাংলাদেশি এই ট্রেনটি ব্যবহার করে। বিশেষ করে চিকিৎসার কারণে ভেলরে যান তারা। ফলে এ ট্রেনে কোনো বাংলাদেশি আটকে আছেন কিনা বা মৃত্যু অথবা আহত হয়েছেন কিনা, সেদিকে নজর রাখছে কলকাতাস্থ বাংলাদেশে ডেপুটি হাইকমিশন। মিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমরা পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ওড়িষ্যার সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছি। সম্পূর্ণ বিষয়টার ওপর মনিটরিং শুরু করেছি।